যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমেরিকান পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে পড়েছে’। স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন মাউন্ট রাশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের ভূমিকা এবং দেশের ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে কঠোর সমালোচনাও করেন।
মাউন্ট রাশমোরে চার মার্কিন প্রেসিডেন্ট—জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিংকনের বিশাল ভাস্কর্যের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে ‘ভেতর থেকে আক্রমণ’ চলছে।
ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, দেশে আবারও ‘কমিউনিস্ট হুমকি’র পুনরুত্থান ঘটছে। তিনি কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে ‘উগ্রপন্থি’ ও ‘চরমপন্থি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা আমেরিকার ঐতিহ্য ও পরিচয়কে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে বিভাজনমূলক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা দেশের মূল ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হিসেবে তিনি মনে করেন।
অভিবাসন প্রসঙ্গেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করলেও যারা সেখানে বসবাস করেন, তাদের দেশটির মূল্যবোধ ও অর্জনকে সম্মান করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেওয়া রাজনৈতিক বার্তার অংশ, যেখানে তিনি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরছেন।
ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নিয়েও কথা বলেন। তবে এই উদযাপন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দেশটি তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন ও উচ্চ তাপমাত্রাজনিত আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
এদিকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের জনসমাগম ও উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। তবে চরম তাপপ্রবাহের কারণে বহু এলাকায় সতর্কতা জারি থাকায় কিছু কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে।
এর মধ্যেও ট্রাম্প রাজধানী ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে একটি বড় জনসভার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে সামরিক প্রদর্শনী ও আতশবাজির আয়োজন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

