যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সূচনা হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভাষণের মধ্য দিয়ে, যেখানে তিনি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’র কথা তুলে ধরেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া প্রায় আধা ঘণ্টার এই ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে কথা বলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি তার বক্তব্যে সমর্থকদের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তাও দেন।
ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গ্রানাইট পর্বতে খোদাই করা চার প্রেসিডেন্ট—জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিংকনের প্রশংসা করেন। তিনি তাদের ‘কর্ম, সাহস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রজ্ঞার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠানে তাকে ‘ইউএসএ! ইউএসএ!’ স্লোগানে স্বাগত জানানো হয় এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শনও অনুষ্ঠিত হয়। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন এবং অতীতে মাউন্ট রাশমোরে নিজের প্রতিকৃতি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দেওয়া মন্তব্যও পুনরায় আলোচনায় আসে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও পরিচয়কে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে এবং দেশটির ‘আমেরিকান চেতনাকে দুর্বল করার’ প্রচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার মূল মূল্যবোধে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে।
ভাষণের রাজনৈতিক অংশে তিনি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের নীতিকে দেশের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। আসন্ন কংগ্রেস মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তিনি অভিবাসন ইস্যু নিয়েও কথা বলেন এবং দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় নতুন অভিবাসীদের আদর্শ ও জীবনধারা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তার রাজনৈতিক আন্দোলন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (MAGA)-এর ধারাবাহিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বারবার তুলে ধরা হয়।

