মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা যেন নতুন করে ভেঙে না পড়ে, সে বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তার ভাষায়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে এই সমঝোতাকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে হবে এবং কোনো পক্ষকে তা নস্যাৎ করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
শনিবার (৪ জুলাই) ইস্তাম্বুলে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না, যেখানে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশগুলোর মতামত ও অংশগ্রহণ উপেক্ষা করা হয়।
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটিকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বর্তমান ইসরায়েলি সরকারকে লক্ষ্য করে এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা গোটা অঞ্চলের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও রক্তপাত ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া উচিত নয়।
এটি অবশ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এরদোয়ানের প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার দাবি করেছিলেন, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার চলমান সামরিক অভিযান আঞ্চলিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও তুলেছিলেন।
গত সপ্তাহে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনার পর একটি সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি হয় বলে জানানো হয়।
এই সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তি এবং স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধের একটি রূপরেখা।
অন্যদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী জানিয়েছেন, চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে বা কোনো পক্ষ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে তা দ্রুত জানাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। কারণ চুক্তির বিভিন্ন শর্তের ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে এই সমঝোতা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর। যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চুক্তির শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি দ্রুতই নতুন করে সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তাই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য এই সমঝোতা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

