ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও শোকের দৃশ্য দেখে নিজের পূর্বধারণা ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আগে তার ধারণা ছিল ইরানের অধিকাংশ মানুষ খামেনিকে অপছন্দ করতেন। কিন্তু জানাজার দৃশ্য সেই ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম ইরানের মানুষ তাকে ঘৃণা করে।” কিন্তু জানাজায় মানুষের অংশগ্রহণ এবং আবেগঘন পরিবেশ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান।
সাংবাদিক বারাক রাভিডের সঙ্গে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, চাইলে জানাজাস্থলে উপস্থিত সবাইকে নির্মূল করা সম্ভব ছিল। তবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, কারণ তাতে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগই শেষ হয়ে যেত।
তার ভাষায়, যদি এমন কিছু ঘটানো হতো, তাহলে “আলোচনা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকত না।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে উত্তেজনা না বাড়ানোর বিষয়ে নীরব সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনাও বিরতিতে থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাবে না।
যদিও ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে আলোচনায় বিরতি বা হামলা না চালানোর বিষয়ে তার বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য একদিকে যেমন ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতের বিষয়ে তার পূর্ববর্তী ধারণার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এদিকে খামেনির মৃত্যু ঘিরে ইরানে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালন চলছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নিচ্ছেন। দেশটির বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বিদেশি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত রয়েছে। এই বিশাল জনসমাগম ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় শোকানুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

