মহাকাশ প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পথে নতুন আরেকটি পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। দেশটি একগুচ্ছ নতুন কৃত্রিম উপগ্রহ সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে, যা ভবিষ্যতে তাদের বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত মহাকাশ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করবে। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নিম্ন-কক্ষপথভিত্তিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরও একটি ধাপ অতিক্রম করল বেইজিং।
রোববার (৫ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের তাইইউয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে একটি উন্নত সংস্করণের লং মার্চ-৬ বাহক রকেট ব্যবহার করে স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে পাঠানো হয়।
উৎক্ষেপণের পর সবগুলো উপগ্রহ পরিকল্পনা অনুযায়ী সফলভাবে তাদের নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। ফলে মিশনটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চীনের নতুন উৎক্ষেপিত স্যাটেলাইটগুলো দেশটির বৃহৎ বাণিজ্যিক নিম্ন-কক্ষপথ উপগ্রহ নেটওয়ার্ক স্পেসসেইল কনস্টেলেশন-এর অংশ হিসেবে যুক্ত হবে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছে চীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন-কক্ষপথে বিপুল সংখ্যক উপগ্রহ স্থাপনের প্রতিযোগিতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তীব্র হয়ে উঠেছে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, কৃষি, পরিবহন, প্রতিরক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে এসব উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই ধারাবাহিকভাবে নতুন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করছে বেইজিং।
এই উৎক্ষেপণের আরেকটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি ছিল চীনের বহুল ব্যবহৃত লং মার্চ বাহক রকেট সিরিজের ৬৫৫তম সফল অভিযান। কয়েক দশক ধরে পরিচালিত এই কর্মসূচি চীনের মহাকাশ গবেষণা ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন শুধু সরকারি মহাকাশ কর্মসূচিই নয়, বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতেও বড় বিনিয়োগ করছে। নতুন নতুন উপগ্রহ, উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি এবং মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে দেশটি।

