রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেই আবারও বড় ধরনের হামলার মুখে পড়েছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকা। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং আরও ৩৪ জন আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকারী দলকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অভিযান চালাতে হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রাজধানী কিয়েভে। কিয়েভ সিটি সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, রাজধানীতেই ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন। তার দাবি, রুশ বাহিনীর নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানায় বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, রাজধানীর বাইরে আশপাশের শহর ও উপশহরেও হামলার প্রভাব পড়েছে। সেখানে একজন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবেই বেসামরিক মানুষ ও সাধারণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
হামলার পর সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় কিয়েভের দার্নিটস্কি জেলায়। শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ২৫ তলা আবাসিক ভবনের ওপর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে গেলে ওপরের তলার অনেক বাসিন্দা আটকা পড়েন। পরে উদ্ধারকারী কর্মীরা অভিযান চালিয়ে অন্তত ২২ জনকে নিরাপদে বের করে আনেন।
একই জেলায় আরেকটি ৩০ তলা আবাসিক ভবনের ওপরের অংশেও আগুন ধরে যায়। দ্রুত সেখানে দমকল ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।
শুধু দার্নিটস্কি নয়, কিয়েভের পদিলস্কি জেলাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। একটি ২১ তলা আবাসিক ভবনের একটি অংশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধসে পড়ে। এছাড়া ওবোলোনস্কি জেলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বড় গুদামঘর ও একটি অনাবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এই হামলা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুদ্ধ এখনো ইউক্রেনের বড় শহরগুলোকে ঘিরেই তীব্রভাবে চলছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেনের স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীন বা নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়েছে। ফলে যুদ্ধের সামনের সারির বাইরে থাকা শহরগুলোর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগে যুদ্ধ থামানোর আলোচনা চললেও বাস্তবে ময়দানের সংঘাত এখনো থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং নতুন নতুন হামলা প্রমাণ করছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও দীর্ঘ ও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ বেসামরিক মানুষ।

