মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করে ট্রাম্প আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
আশি বছর বয়সী ট্রাম্প দাবি করেছেন, উনপঞ্চাশ বছর বয়সী মেলোনি তার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত। এমনকি এ কারণে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ জারি করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, মেলোনি ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন’। একই সময়ে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামাকে নিয়েও একটি বিকৃত ছবি প্রকাশ করেন। সেই ছবিতে এয়ার ফোর্স ওয়ানের গায়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকা অবস্থায় তাদের দেখানো হয়।
এদিকে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিসহ জোটের অন্য ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকের ঠিক আগে ট্রাম্পের এই পোস্ট দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

দুই ডানপন্থী নেতার এই বিরোধের সূচনা হয় গত সপ্তাহে। তখন ট্রাম্প দাবি করেন, জি-সেভেন সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন এবং একপর্যায়ে অনুনয়-বিনয়ও করেছিলেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন।
অন্যদিকে ট্রাম্পের অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। ইতালির সংবাদ সংস্থা আদনক্রোনোসের বরাতে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল রেতে ফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
মেলোনি বলেন, ইতালি কিংবা তিনি নিজে কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা অনুনয় করেন না। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা তার উদ্দেশ্য নয়। অতীতেও তিনি কারও সামনে মাথা নত করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না।
তার ভাষ্য, পশ্চিমা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলেই শক্তিশালী থাকে এবং ইতালি সেই ঐক্যের অংশ হিসেবেই কাজ করতে চায়। তবে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে স্পষ্টবাদিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নিজেকে তিনি একজন স্পষ্টভাষী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা করতে ইতালির অনীহা প্রকাশের পর থেকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। এর সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক সমালোচনা এবং এসব সংকট সমাধান না হলে ইউরোপের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে— এমন মন্তব্য দুই নেতার মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

