ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়। ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেন মহবি জানান, বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন প্রবেশ করলে সেটিকে লক্ষ্য করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তাদের দাবি, ড্রোনটি সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এটি ইরানের আকাশসীমা রক্ষায় নেওয়া একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
আল জাজিরা, তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নজরদারি সক্ষমতাসম্পন্ন একটি মানববিহীন বিমান। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ড্রোনটি অনুমতি ছাড়াই তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।
মুখপাত্র হোসেন মহবি বলেন, বিদেশি সামরিক উড্ডয়নের মাধ্যমে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের যে কোনো চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে সামরিক তৎপরতা, পারস্পরিক অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থান ক্রমেই বাড়ছে। ফলে একটি ছোট ঘটনাও বৃহত্তর কূটনৈতিক কিংবা সামরিক উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নজরদারি ড্রোন আধুনিক সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন অভিযানে এসব ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তাই এ ধরনের একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার দাবি শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে ইরানের দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াশিংটনের অবস্থান প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক সংলাপের পরিবর্তে যদি সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে, তাহলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

