গাজায় কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গাজার বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
বার্তা সংস্থা আনাদলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সাবরা এলাকায় বার্সেলোনা পার্কের পূর্ব পাশে একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশু ছিল। হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, ওই ঘটনায় আহত আরও নয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই দিনে মধ্য খান ইউনিসের জোরাত আল-আক্কাদ এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হন। পাশাপাশি বির জানুন ও আল-শায়ের এলাকায় পথচারীদের লক্ষ্য করে চালানো পৃথক হামলায় ৩০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় চার শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এদিকে রাফাহর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুয়াবিয়া এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আরও পাঁচজন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে সাধারণ মানুষের দিকে গুলি ছোড়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে গাজা সিটির বন্দরের কাছে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ৪৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিক হামলার ঘটনা সংঘাতের স্থায়ী সমাধানকে আরও জটিল করে তুলছে। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।

