ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা এখন ইরাকে। নাজাফে তার মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে বিশাল শোক র্যালি ও জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। খামেনির ইচ্ছানুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) ভোর থেকেই নাজাফে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। ইমাম আলীর (রা.) পবিত্র মাজারের আশপাশ এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। পরে মরদেহ সেখানে পৌঁছালে শোকযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
ইরাকি বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইরাক নয়, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ থেকেও অসংখ্য অনুসারী নাজাফে পৌঁছেছেন। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি লাখ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অনেকেই ভোর হওয়ার আগেই শহরে অবস্থান নেন, যাতে শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।
শোক র্যালির সময় ইমাম আলীর (রা.) মাজার এলাকা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মরদেহ বহনকারী কফিন কাঁধে নিয়ে হাজারো মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নেন। ধর্মীয় পরিবেশে দোয়া, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে মরদেহ পবিত্র নগরী কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে নির্ধারিত ধর্মীয় কর্মসূচি শেষে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। চূড়ান্ত দাফনের আগে বিভিন্ন পবিত্র স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইরাক সরকারও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দাফন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি বুধবার সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। তিনিই বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেন।
খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা কয়েক দিন ধরেই চলমান। গত শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বিদেশি প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনেরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শনিবার ও রোববার সাধারণ মানুষের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ রাখা হয়। এরপর সোমবার রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত শোক র্যালিতে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। মঙ্গলবার কোমের পবিত্র জামকারান মসজিদেও বিপুলসংখ্যক অনুসারী জানাজার নামাজে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইরাকে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠান শুধু একটি ধর্মীয় কর্মসূচি নয়, বরং আঞ্চলিক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে। বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে উভয় দেশেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুরো কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও নজরে রয়েছে।

