ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং চারজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
শুধু কেরালাই নয়, গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় মহারাষ্ট্রেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে দুই রাজ্য মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮ জনে পৌঁছেছে।
ভারতের সংবাদ সংস্থা জানায়, মহারাষ্ট্রের পুনে এলাকায় একটি পাহাড়ের বড় অংশ ধসে কয়েকটি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনার সময় অন্তত ৩০ জন সেখানে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। অন্যদের জীবিত উদ্ধারে সেনা, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পাহাড় ধসের কারণে মুম্বাই-পুনে মহাসড়কের কয়েকটি অংশ বন্ধ রয়েছে। এতে রাজধানী মুম্বাইয়ের সঙ্গে পুনের সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আবহাওয়া বিভাগ মুম্বাই মহানগর অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান মৌসুমি বৃষ্টির তীব্রতা এবং পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নিচু এলাকা, পাহাড়সংলগ্ন বসতি এবং দুর্বল অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

