বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে আলোচনার আর কোনো অর্থ দেখছেন না। তার ভাষায়, ইরানের নেতৃত্বের আচরণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাদের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
সাংবাদিকরা যখন জানতে চান, ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়েছে কি না, তখন ট্রাম্প বলেন, তার দৃষ্টিতে সেই সমঝোতার অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগ্রহ তার নেই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াকে তিনি সময়ের অপচয় বলেই মনে করেন।
এই ঘোষণার পেছনে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া সাময়িক ছাড়ও প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগও আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারককে অকার্যকর ঘোষণা করার অর্থ হলো ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের পথ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু ইরান নয়, একই বক্তব্যে ট্রাম্প স্পেনের প্রতিও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্পেনকে ন্যাটোর একটি “খুবই দুর্বল অংশীদার” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যদিও স্পেনের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়, সামরিক সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে ঘিরেই ওয়াশিংটনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের দরজা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের মিত্র স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা—দুটি পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।
এখন নজর থাকবে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরান, স্পেন এবং ন্যাটো জোটের অন্যান্য সদস্য দেশ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায় এবং এই অবস্থান ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করে।

