মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর কোনো সমঝোতার আশা দেখছেন না।
বুধবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তার মূল্যায়নে ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার চেয়ে সংঘাতের ঝুঁকিই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে বাহরাইন ও কাতারে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করে ইরান। এসব ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এর আগে সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ঘোষণা দেয় তেহরান, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
ট্রাম্প বলেন, তার মতে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সময় ব্যয় করার যৌক্তিকতা এখন আর নেই। তবে অন্য কোনো মধ্যস্থতাকারী যদি আলোচনা চালিয়ে যেতে চান, তাতে তিনি আপত্তি করবেন না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তিনি খুব কমই দেখছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও দুর্বল হয়ে পড়ায় সংকট আরও জটিল আকার নিতে পারে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর না থাকলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও অনুভূত হতে পারে।
এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করে কি না, নাকি বর্তমান উত্তেজনা আরও বড় আকারের সংঘাতে রূপ নেয়।

