যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তুরস্কের কাছে বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের কড়া বিরোধিতা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, কেবল উন্নত যুদ্ধবিমান সরবরাহ করলেই তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে উঠবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি দাবি করেন, আঙ্কারার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক নীতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মতে, এফ-৩৫ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান। এই প্রযুক্তি তুরস্কের হাতে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকা সামরিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্বের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্ক সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিন্ন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আঙ্কারাকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে তুরস্কের ওপর আরোপিত আগের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। এতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন করে জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, এফ-৩৫ ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই নেতা এখনও একই ধরনের অবস্থান ধারণ করেন এবং কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ইরান প্রসঙ্গও উঠে আসে। অতীতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে হওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তির কঠোর সমালোচক হলেও এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। পর্যবেক্ষকদের মতে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ইসরায়েল আপাতত এ বিষয়ে অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থান নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও আলোচনায় আসে। নেতানিয়াহু বলেন, মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি অংশে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন আগের তুলনায় কমেছে। তবে এর জন্য নিজের ভূমিকা দায়ী নয় বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রচারণা জনমতকে প্রভাবিত করছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়েও মন্তব্য করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং ইসরায়েলের বিচারব্যবস্থা এ ধরনের ঘটনায় আরও কঠোর ভূমিকা নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার বিষয়টি শুধু একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়; এটি ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে।

