পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী ও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য এবং ১১ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার এন-২৫ মহাসড়কের ঝাও ক্রস ও কারারো এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযান শুরু হওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয় এবং সংঘর্ষ দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছিল। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষ শেষে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া সশস্ত্র সদস্যদের খুঁজে বের করতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলুচিস্তানে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান চলবে।
এই সংঘর্ষের মাত্র দুই দিন আগেই বেলুচিস্তানের জিয়ারত জেলায় একটি পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে ওই হামলায় অন্তত ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা অভিযানে স্পষ্ট হচ্ছে, পাকিস্তানের এই প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংকট, বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা এবং সশস্ত্র সহিংসতার কারণে অস্থির। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদার হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রদেশটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

