মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর এবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। এ ঘটনার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৯ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তাদের নৌ ও মহাকাশ ইউনিট যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের প্রথম ধাপ।
বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বাহরাইনের জুফায়ের এবং শেখ ইসা সামরিক ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির আটজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলার পর থেকেই তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছিল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের প্রতিক্রিয়ামূলক অবস্থান সংঘাতের পরিধি বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত কুয়েত, বাহরাইন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের হামলার দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

