ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও গভীর হয়েছে। এবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় নতুন দফায় প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
৯ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পরিচালিত অভিযানে ইরানের সামরিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে আগের রাতেও ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৭০টি সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অভিযানে উপকূলীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র, নৌবাহিনীর বিভিন্ন সক্ষমতা এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাসহ প্রায় ৯০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের জন্য যে সামরিক হুমকি তৈরি হয়েছে, তা দুর্বল করে দেওয়াই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তাদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
অন্যদিকে, এর আগে ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। বৃহস্পতিবার ভোরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের দাবি অনুযায়ী, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইরান এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

