মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যদি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
বুধবার (৮ জুলাই) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। ভ্যান্সের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তার ভাষায়, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট এবং এতে কোনো ধরনের দ্বিধা নেই।
ভ্যান্স আরও স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগে একটি সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতার মূল শর্ত ছিল, ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ রাখলে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করবে। কিন্তু জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। তারা চাইলে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পারে, অথবা আগের রাতের ঘটনার মতো সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নিতে পারে। তার দাবি, যতদিন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত না থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ না হবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্র তার বর্তমান পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, পুরো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক কঠোর অবস্থানের কারণে অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যান্সের সর্বশেষ মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

