মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া সমঝোতার কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর তিনি ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার রাতে ইরানের ওপর শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বুধবার রাতেও আরও বড় ধরনের হামলা হতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের শর্ত ইরান লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানের নেতারা ‘মিথ্যা বলে’ এবং ‘প্রতারণা করে’।
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “গালিগালাজের বদলে আমরা গালিগালাজ করি না। আমরা জবাব দিই কাজের মাধ্যমে, কোনো ভয় ছাড়াই এবং অসীম সাহসিকতার সঙ্গে।”
জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ওই সময়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
ন্যাটো সম্মেলনে ওই সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি এটি শেষ। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।” একই সঙ্গে তিনি ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, আলোচনার পরও ইরান প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
তবে সম্মেলন শুরুর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন আলোচকেরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, যদিও তার মতে সেটি সময়ের অপচয় হবে। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবারও বলেন, তার বিশ্বাস ইরানের সঙ্গে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হবে না এবং যা-ই ঘটুক, তা দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
এদিকে ট্রাম্পের হামলার সতর্কবার্তার পর বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওই অভিযানে অন্তত ৯০টি স্থানে হামলা করা হয়েছে।
এর পরদিন ইরান দাবি করে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে টানা দুই দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটল।

