দীর্ঘ এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোক, জানাজা ও শোকযাত্রা শেষে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দাফন করা হচ্ছে। তাকে ইরানের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে শোকযাত্রা, সমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মাশহাদের বিভিন্ন সড়কে হাজারো মানুষ শোকমিছিলে অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির প্রতিকৃতি এবং বিপ্লব-সমর্থিত বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
গত সপ্তাহে খামেনির মরদেহ ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হলে দেশটির ধর্মীয় নেতারা ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানান। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইরানের ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থার প্রতি জনসমর্থন প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর ইরান এখন অভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পাশাপাশি প্রায় ৩৭ বছর দেশ পরিচালনা করা খামেনির উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও দেশটিতে আলোচনা ও মতভেদ অব্যাহত রয়েছে।

