মরুকরণের বিস্তার রোধে কয়েক দশক ধরে পরিচালিত চীনের বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত পরিবেশ প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের আওতায় দেশটি ইতোমধ্যে প্রায় ৬৬০০ কোটি গাছ রোপণ করেছে, যা ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ নামে পরিচিত।
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিশাল মানবসৃষ্ট বনের গাছগুলো প্রাকৃতিক বনের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটিতে ইউক্যালিপটাস ও পপলারের মতো দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রজাতির গাছ ব্যাপকভাবে রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার কারণে গাছগুলোর বৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। এ ছাড়া বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের উচ্চমাত্রাও গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। অনেক গবেষকের মতে, অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড এক ধরনের প্রাকৃতিক সারের মতো কাজ করে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাড়াতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা নিয়েও সতর্ক করছেন। তাদের মতে, গাছের বয়স প্রায় চল্লিশ বছর হলে স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধির গতি কমে আসে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দ্রুত বৃদ্ধির ধারা আগের মতো থাকবে না।
এ কারণে পরিবেশগত স্থিতিশীলতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বনের গুরুত্ব এখনো সবচেয়ে বেশি। তবুও মরুকরণ মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে চীনের এই বৃহৎ কৃত্রিম বনায়ন কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী একটি উল্লেখযোগ্য ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

