বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যে আবারও নিজের আধিপত্যের প্রমাণ দিল সিঙ্গাপুর। টানা ১৩তম বারের মতো বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্রের স্বীকৃতি পেয়েছে দেশটি।
২০২৬ সালের সিনহুয়া-বাল্টিক ইন্টারন্যাশনাল শিপিং সেন্টার ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (আইএসসিডিআই) প্রকাশিত হওয়ার পর এ তথ্য সামনে আসে। সর্বশেষ সূচকে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৩২ স্কোর অর্জন করে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সাফল্যের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুরের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, উন্নতমানের সামুদ্রিক সেবা, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর ব্যবস্থাপনা। এসব কারণে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে দেশটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এই স্বীকৃতি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) তাদের প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমপিএ জানায়, গত তিন দশকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতার ফলেই এ ধারাবাহিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী সংযোগ ব্যবস্থা ও সমন্বিত সেবা গড়ে তোলার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর আজ বৈশ্বিক সামুদ্রিক শিল্পের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এমপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আং উই কিয়ং এ অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে আবারও স্বীকৃতি পাওয়া সিঙ্গাপুরের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, এ অর্জন সামুদ্রিক খাতের ব্যবসায়িক অংশীদার ও পুরো শিল্পসংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
এবারের সূচকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাংহাই। বন্দরটির স্কোর ৮৪ দশমিক ২৭। তৃতীয় স্থানে থাকা লন্ডনের স্কোর ৮১ দশমিক ৮০। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে হংকং, যার স্কোর ৮০ দশমিক ৮৭। আর ৭৭ দশমিক ১৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে দুবাই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ সূচক চালু হওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে সিঙ্গাপুর।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাজারবিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাল্টিক এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে প্রতিবছর এ সূচক প্রকাশ করে। বিশ্বের ৪৩টি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বন্দরগুলোর সামগ্রিক সক্ষমতা, পেশাদার সামুদ্রিক সেবার মান এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশকে প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

