ভারত থেকে বাংলাদেশে তিন নারীকে জোর করে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থান এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎপরতার মুখে ওই তিন ভারতীয় নারীকে আবারও ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ঘটনাটির পর দুই দেশের সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রকাশিত তথ্য এবং বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের বিপরীতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে থাকা আলোর ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর তিন নারীকে সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে নিয়ে আসা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
তবে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে এলে তারা দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করেন। বিজিবিও তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই তিন নারীকে শূন্যরেখা থেকে আবার ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।
বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (অবস) কারিমুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে তিন নারীকে বিএসএফ ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টার দিকে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আলো নিভিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বিজিবির সতর্কতা এবং স্থানীয়দের উপস্থিতির কারণে পুশইনের প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তাদের পুনরায় ভারতের শূন্যরেখার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা ভারতের প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরে শূন্যরেখা এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। প্রায় ২২ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে থাকার পর বিএসএফ তাদের সেখান থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাৎক্ষণিক যোগাযোগ শুরু করে। শনিবার দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৮ নম্বর উপপিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে ভারতের খড়খড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বাংলাদেশের পক্ষে ধবলসূতি বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ অংশে বিজিবি সীমান্ত টহল আগের তুলনায় আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় অংশেও অতিরিক্ত বিএসএফ সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। ফলে পুরো সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় মানবিক ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের বিষয়ই জড়িয়ে থাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

