ভেনিজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষত এখনো কাটেনি। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন হতাহতের তথ্য। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৪৯০ জনে পৌঁছেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও আহতের সংখ্যা আগের মতোই ১৬ হাজার ৭৪০ জন রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ধ্বংসস্তূপে এখনও অনুসন্ধান চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুন ভেনিজুয়েলার ইয়ারাচুই রাজ্যে মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি বড় ভূমিকম্প হওয়ায় বহু ভবন দ্বিতীয় ধাক্কা সহ্য করতে পারেনি। ফলে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি ঘরবাড়ি, সড়ক, সরকারি স্থাপনা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অভিযান শুরু করে। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুরুতে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবুও বহু পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করছে।
সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হাজারো পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ের বাইরে রয়েছে এবং অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্যোগ থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে ভেনিজুয়েলার দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপর্যয় আবারও দেখিয়ে দিল যে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনই এখন ভেনিজুয়েলা সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

