ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে একটি বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া ময়লার স্তূপ ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার পুনেতে অবস্থিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির একটি ল্যান্ডফিল বা ময়লা ফেলার স্থানে হঠাৎ কয়েক হাজার টন বর্জ্য ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিশাল স্তূপ প্রশাসনিক ভবনের ওপর গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে কর্মরত ২৩ জন আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে শুরু থেকেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টানা বৃষ্টি। ভারী বর্ষণের কারণে উদ্ধারকারী দলকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
সোমবার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানান, অবিরাম বৃষ্টির কারণে ধ্বংসস্তূপের স্থিতিশীলতা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালানোর পাশাপাশি পুরো স্থাপনার নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ কারণে কেন্দ্রটির সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতে বর্ষা মৌসুমে ভবন ধস, ভূমিধস এবং নির্মাণসংক্রান্ত দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। দীর্ঘ সময়ের ভারী বৃষ্টিতে পুরোনো বা দুর্বল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিশাল আকারের ল্যান্ডফিলও এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, চলতি বছর সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো-এর প্রভাবে দেশটির স্বাভাবিক বর্ষার ধরণ আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

