চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যারিসনের প্লাজমায় বিরল অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি ছিল। এই অ্যান্টিবডি ব্যবহার করে এমন একটি ইনজেকশন তৈরি করা হয়, যা গর্ভাবস্থায় মা ও গর্ভের সন্তানের রক্তের গ্রুপের অসামঞ্জস্যজনিত জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ধরনের জটিলতায় গর্ভবতী মায়ের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত গর্ভের শিশুর লোহিত রক্তকণিকাকে শত্রু হিসেবে শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে। এর ফলে শিশুর রক্তস্বল্পতা, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। অ্যান্টি-ডি ইনজেকশন এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
জেমস হ্যারিসন টানা ছয় দশকেরও বেশি সময় নিয়মিত প্লাজমা দান করেছেন। একবার বা কয়েকবার নয়, তিনি মোট ১ হাজার ১৭৩ বার প্লাজমা দান করে বিশ্বে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর দান করা প্লাজমা থেকে উৎপাদিত অ্যান্টি-ডি ইনজেকশন বহু বছর ধরে হাজার হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়েছে।
এই চিকিৎসার প্রয়োজন একসময় তাঁর নিজের পরিবারেও দেখা দেয়। হ্যারিসনের মেয়ে ট্রেসি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকেও অ্যান্টি-ডি ইনজেকশন নিতে হয়। যে চিকিৎসা উপাদান তৈরিতে তাঁর বাবা সারা জীবন অবদান রেখেছিলেন, সেই একই চিকিৎসা নিরাপদভাবে পৃথিবীর আলো দেখাতে সাহায্য করে তাঁর নাতি স্কটকে।
জেমস হ্যারিসন ৮১ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত প্লাজমা দান করে গেছেন। পরে বয়সসীমা অতিক্রম করায় চিকিৎসা-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে প্লাজমা দান থেকে অবসর নিতে হয়।
নিজের অসাধারণ রেকর্ড নিয়ে হ্যারিসন একবার বলেছিলেন, “আমি আশা করি, একদিন কেউ এই রেকর্ড ভাঙবে। কারণ এর অর্থ হবে, সেই মানুষটিও মানুষের জীবন বাঁচাতে একই রকম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছেন।”
চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জেমস হ্যারিসনের জীবন প্রমাণ করে একজন স্বেচ্ছা রক্ত বা প্লাজমা দাতা কত অসংখ্য মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর মানবিক অবদান আজও বিশ্বজুড়ে রক্ত ও প্লাজমা দানে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

