ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ সংঘাতে নিহত সব ইরানি নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই।
১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাঘেই বলেন, নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা শুধু সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ, সেগুলো নথিভুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় উপস্থাপনের জন্য ইরান কূটনৈতিক ও আইনি সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরে বিচারিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।
ইসমাইল বাঘেই আরও জানান, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি যৌথ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। তবে তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে এ বিষয়ে ওমানের রাজধানী মাসকাটের সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান এখন সামরিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক ও আইনি ক্ষেত্রেও সক্রিয় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অভিযোগ উপস্থাপন এবং ঘটনাগুলোর বিচার দাবি করে তেহরান ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

