ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সংগঠনকে প্রায় ৪০ লাখ শেকেল (প্রায় ১৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার) অর্থ সহায়তা দিতে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক ইতামার বেন গভিরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ‘আহাভাত গিলাদ’ (গিলাদের প্রতি ভালোবাসা) নামের ওই সংগঠনকে এই অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠনটি পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উসকে দেওয়া ও তাতে অর্থায়নের অভিযোগে কয়েকটি আন্তর্জাতিক দেশ আহাভাত গিলাদসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়, আহাভাত গিলাদ অবৈধ বসতি ফাঁড়িগুলোকে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বসতি স্থাপনকারী খামারগুলোকে সহায়তা দেওয়া সংগঠন ‘ফার্মস ইউনিয়ন’-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ সরাসরি এসব অবৈধ ফাঁড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে—এই অর্থ ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ‘সহিংসতার ঘটনা কমানো’ এবং জুডিয়া ও সামারিয়া নামে পরিচিত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় খামারে অবস্থানরত তরুণদের সঙ্গে কাজ করার জন্য পরামর্শদাতাদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
নথি অনুযায়ী, এই অর্থ দেড় বছরের মেয়াদে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে প্রকল্পটির সময়সীমা আরও বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় পশ্চিম তীরে তরুণদের মধ্যে সহিংস প্রবণতা মোকাবিলায় মে মাসে ইসরায়েল সরকার একটি ‘জাতীয় পরিকল্পনা’ অনুমোদন করে। এর অংশ হিসেবেই এই অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার দাবি করছে, তরুণদের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং তাদের জন্য একটি প্রতিরোধমূলক কাঠামো তৈরি করাই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য।
সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, কৃষক, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে আহাভাত গিলাদকে এই প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তরুণদের কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হলে এমন ‘দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কদের’ প্রয়োজন, যারা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে জানেন, স্থানীয় তরুণদের কাছে পরিচিত এবং তাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি পেশাদার কাঠামো তৈরি করা, যা সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
তবে সমালোচকদের দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা একটি সংগঠনকে সরকারি অর্থায়ন দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে হারেৎজের সমালোচনার জবাবে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বলেছে, তরুণদের মধ্যে সহিংসতা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে সংবাদমাধ্যমটি ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ইসরায়েলবিরোধী পক্ষগুলোর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

