উত্তর আফ্রিকা এখন আর শুধু ইউরোপ, চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক আগ্রহের অঞ্চল নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ভূখণ্ড রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মতো আঞ্চলিক ও মধ্যম শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে এসব দেশ বিনিয়োগ, অস্ত্র সরবরাহ, সামরিক প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং রাজনৈতিক জোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।
এই পরিবর্তনের ফলে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগী পাচ্ছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও জটিল হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং দীর্ঘদিনের পশ্চিমা প্রভাব তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ইউরোপ বা চীন উত্তর আফ্রিকায় গুরুত্ব হারিয়েছে। বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তারা এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মরক্কো ও তিউনিসিয়ার মতো দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৩০ শতাংশের বেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, চীন বৃহৎ অবকাঠামো ও বাণিজ্যপথভিত্তিক উদ্যোগের আওতায় বন্দর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে।
কিন্তু নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। রাশিয়া, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং তুরস্ক এমন কৌশল অনুসরণ করছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর তুলনায় বেশি দ্রুত, নমনীয় এবং শর্তহীন বলে উত্তর আফ্রিকার অনেক সরকার ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তন
সোভিয়েত আমল থেকেই উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো নতুন কৌশলে অঞ্চলটিতে ফিরে এসেছে। ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পরিবর্তে রাশিয়া তুলনামূলক কম সম্পদ ব্যবহার করে সামরিক সহযোগিতা, অস্ত্র সরবরাহ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে প্রভাব বাড়াচ্ছে।
রাশিয়ার কৌশলের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ লিবিয়া। ২০১৯ সাল থেকে দেশটির পূর্বাঞ্চলভিত্তিক শক্তিগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে রুশপন্থী সামরিক গোষ্ঠী। প্রথমে ওয়াগনার বাহিনী এবং পরে এর উত্তরসূরি আফ্রিকা বাহিনী এই কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের উপস্থিতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথের ওপর প্রভাব তৈরির চেষ্টাও এর অংশ ছিল।
খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান জাতীয় সেনাবাহিনীকে রাশিয়া সামরিক পরামর্শ, জনবল, সরঞ্জাম এবং কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। আল-জুফরা বিমানঘাঁটির মতো কৌশলগত স্থানে প্রবেশাধিকার পাওয়ার মাধ্যমে রাশিয়া লিবিয়ার সামরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রভাবিত করার সুযোগ লাভ করেছে।
লিবিয়া রাশিয়ার কাছে শুধু একটি সংঘাতপূর্ণ দেশ নয়। দেশটির অবস্থান ভূমধ্যসাগর, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং ইউরোপের দক্ষিণ সীমান্তের কাছাকাছি। ফলে সেখানে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি তৈরি করা গেলে রাশিয়া একই সঙ্গে ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্য আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের সুবিধা পাবে।
সুদানের লোহিত সাগর উপকূলে রাশিয়ার লক্ষ্য
রাশিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সুদান। দেশটির লোহিত সাগর উপকূলে একটি নৌঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য মস্কো দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে ভূমধ্যসাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রাশিয়ার সামরিক ও নৌ চলাচলের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
লোহিত সাগর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোর একটি। ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যকার বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে সুদানে নৌ উপস্থিতি রাশিয়াকে শুধু সামরিক সুবিধা দেবে না; আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তাকে বাড়তি প্রভাব দেবে।
সুদানের রাজনৈতিক অস্থিরতা অবশ্য রাশিয়ার পরিকল্পনাকে একই সঙ্গে সুযোগ ও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি বিদেশি শক্তির প্রবেশ সহজ করে। কিন্তু একই কারণে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল চুক্তি বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়ে।
আলজেরিয়ার সঙ্গে পুরোনো সামরিক সম্পর্ক
উত্তর আফ্রিকায় রাশিয়ার সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত অংশীদারদের একটি হলো আলজেরিয়া। দেশটির সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রুশ অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আলজেরিয়ার সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রাশিয়া থেকে আসে।
এই নির্ভরতা শুধু অস্ত্র কেনার সম্পর্ক নয়। সামরিক প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও রাশিয়ার সঙ্গে আলজেরিয়ার গভীর যোগাযোগ রয়েছে। ফলে অন্য কোনো সরবরাহকারীর কাছে দ্রুত চলে যাওয়া আলজেরিয়ার জন্য সহজ নয়।
তবে আলজেরিয়া পুরোপুরি রাশিয়ানির্ভর পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে না। ইউরোপের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আলজেরিয়ার কৌশল হলো বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থ ও সামরিক প্রভাব
উত্তর আফ্রিকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় শক্তি হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম সামনে আসে। দেশটি অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে সরাসরি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাবে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে।
লিবিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত পূর্বাঞ্চলভিত্তিক বাহিনীকে আর্থিক, সামরিক ও সরবরাহ সহায়তা দিয়েছে। হাফতারের বাহিনীকে সহায়তার অংশ হিসেবে চালকবিহীন আকাশযান সরবরাহ এবং সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে দেশটি লিবিয়ার সংঘাতে দূরবর্তী পর্যবেক্ষক না থেকে সক্রিয় পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
লিবিয়ায় আমিরাতের আগ্রহের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তারা এমন রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন করতে চায়, যাকে নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার দিক থেকে নিজেদের জন্য নির্ভরযোগ্য মনে করে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা আবুধাবির আঞ্চলিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তৃতীয়ত, লিবিয়ার তেলসম্পদ, বন্দর এবং ভূমধ্যসাগরীয় অবস্থান দেশটির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
বন্দর ও সরবরাহব্যবস্থায় আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সংযুক্ত আরব আমিরাত শুধু সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকায় প্রভাব বাড়াচ্ছে না। বন্দর, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি এবং পরিবহন অবকাঠামোতেও দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করছে।
মিসর ও মরক্কোর বন্দর প্রকল্পে আমিরাতি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। বন্দর নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনায় ভূমিকা রাখা মানে শুধু ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়া নয়। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্যপথ, পণ্য পরিবহন এবং কৌশলগত সামুদ্রিক যোগাযোগের ওপরও প্রভাব তৈরি করা সম্ভব হয়।
উত্তর আফ্রিকার বন্দরগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। ফলে এসব অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভবিষ্যতের বাণিজ্য ও সামুদ্রিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে।
সৌদি আরবের নীরব কিন্তু শক্তিশালী অর্থনৈতিক কৌশল
সংযুক্ত আরব আমিরাতের তুলনায় সৌদি আরব উত্তর আফ্রিকায় সরাসরি সামরিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা সতর্ক। তবে আর্থিক সহায়তা, আমানত, ঋণ এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করেছে।
এ ক্ষেত্রে মিসর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ২০১৩ সালের পর থেকে মিসরের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলো মিসরকে ঋণ, আমানত ও বিনিয়োগের মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছে।
সৌদি আরব একাধিকবার মিসরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত রেখেছে এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব সহায়তা মিসরের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলা এবং স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে অর্থনৈতিক সহায়তা কখনোই পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে না। যে দেশ একটি সরকারের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে, সেই দেশ স্বাভাবিকভাবেই তার আঞ্চলিক নীতি, নিরাপত্তা অবস্থান এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। ফলে মিসরের অর্থনৈতিক নির্ভরতা রিয়াদকে কায়রোর নীতিনির্ধারণে পরোক্ষ শক্তি দিয়েছে।
তুরস্কের বহুমুখী প্রভাব বিস্তার
তুরস্ক উত্তর আফ্রিকায় এমন এক কৌশল অনুসরণ করছে, যেখানে সামরিক শক্তি, অস্ত্র রপ্তানি, বাণিজ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ একসঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাশিয়া বা উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় তুরস্কের পদ্ধতি আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক।
তুরস্ক উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের সদস্য হওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে তার কর্মকাণ্ডের ওপর কিছু আন্তর্জাতিক সীমাবদ্ধতা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে আঙ্কারা অনেক ক্ষেত্রেই নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী একক এবং লেনদেনভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
লিবিয়া তুরস্কের উত্তর আফ্রিকা নীতির কেন্দ্রবিন্দু। ২০১৯ সালের শেষ দিকে তুরস্ক ত্রিপোলিভিত্তিক জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের পক্ষে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। তারা সহযোগী যোদ্ধা, নৌযান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং বায়রাকতার টিবি-২ চালকবিহীন আকাশযান মোতায়েন করে।
এই সহায়তা যুদ্ধক্ষেত্রের ভারসাম্য বদলে দেয়। হাফতারপন্থী বাহিনীর ত্রিপোলি দখলের অগ্রযাত্রা থেমে যায় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকার পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে তুরস্ক দেখিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং সীমিত কিন্তু পরিকল্পিত হস্তক্ষেপ ব্যবহার করে একটি আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব।
সমুদ্রসীমা চুক্তির পেছনে জ্বালানি রাজনীতি
তুরস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি একটি বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নির্ধারণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে দুই দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকার সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়।
চুক্তিটি গ্রিস, সাইপ্রাস এবং মিসরের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে। কারণ প্রস্তাবিত সমুদ্রসীমা এসব দেশের জ্বালানি অনুসন্ধান এবং সামুদ্রিক অধিকারের দাবির সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সম্ভাব্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত নিয়ে বহু বছর ধরে প্রতিযোগিতা চলছে। তুরস্ক মনে করে, তাকে বাদ দিয়ে গ্রিস, সাইপ্রাস, মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা গড়ে উঠলে আঞ্চলিক জ্বালানি রাজনীতিতে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই লিবিয়ার সঙ্গে সমুদ্রসীমা চুক্তি আঙ্কারার কাছে শুধু একটি আইনি নথি নয়; এটি জ্বালানি সম্পদে প্রবেশ এবং আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখার কৌশল।
তুরস্ক বর্তমানে আল-ওয়াতিয়া বিমানঘাঁটি এবং মিসরাতা নৌঘাঁটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে লিবিয়ায় নিজের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে দেশটি সহযোগী বাহিনীগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলছে।
অস্ত্র রপ্তানির মাধ্যমে রাজনৈতিক সম্পর্ক
তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কাছে বিকল্প অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। বায়কার, এফএনএসএস এবং বিএমসির মতো তুর্কি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি সাঁজোয়া যান, চালকবিহীন আকাশযান এবং হালকা অস্ত্র অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের আগ্রহ আকর্ষণ করেছে।
অনেক উত্তর আফ্রিকান দেশ পশ্চিমা অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শর্ত, মানবাধিকারসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং দীর্ঘ অনুমোদনপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়। অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করাও তাদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক তুলনামূলক সহজ শর্ত, কম সময় এবং প্রতিযোগিতামূলক দামে অস্ত্র সরবরাহের সুযোগ তৈরি করছে।
তবে এসব চুক্তি শুধু পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণত এর সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং তুর্কি পরামর্শকদের উপস্থিতি যুক্ত থাকে। ফলে একটি অস্ত্রচুক্তি ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে পরিণত হয়।
উত্তর আফ্রিকার জ্বালানি সম্পদের দিকে তুরস্কের নজর
জ্বালানি নিরাপত্তা তুরস্কের উত্তর আফ্রিকা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশটি নিজেকে ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যবর্তী জ্বালানি পরিবহনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। উত্তর আফ্রিকার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তুর্কি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো লিবিয়ার তেল অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে আঙ্কারা উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগর থেকে ইউরোপমুখী জ্বালানি পরিবহনে নিজেকে অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপ বিকল্প জ্বালানি উৎস ও পরিবহনপথ খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক যদি উত্তর আফ্রিকার জ্বালানি প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হতে পারে, তাহলে ইউরোপের সঙ্গে আলোচনায় দেশটির রাজনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতাও বাড়বে।
সংস্কৃতি ও উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে তুরস্কের কোমল প্রভাব
তুরস্ক শুধু অস্ত্র ও সামরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে না। উন্নয়ন প্রকল্প, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের মাধ্যমেও দেশটি উত্তর আফ্রিকায় ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন প্রকল্প, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে তুরস্কের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়।
অটোমান যুগের ঐতিহাসিক যোগাযোগকেও তুরস্ক অনেক ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে উত্তর আফ্রিকার সব দেশ এই ইতিহাসকে একইভাবে দেখে না। কোথাও এটি সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার প্রতীক, আবার কোথাও পুরোনো সাম্রাজ্যিক স্মৃতির কারণে সন্দেহের কারণ হয়ে ওঠে।
কেন উত্তর আফ্রিকা এত গুরুত্বপূর্ণ?
রাশিয়া, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর উত্তর আফ্রিকার প্রতি আগ্রহের পেছনে অঞ্চলটির ভৌগোলিক অবস্থান বড় ভূমিকা রাখছে। উত্তর আফ্রিকা একদিকে ইউরোপের নিকটবর্তী, অন্যদিকে সাহেল অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য, ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।
এই অঞ্চলের দেশগুলোতে বিপুল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও সামুদ্রিক পথও রয়েছে। ইউরোপমুখী অভিবাসনের বড় অংশ উত্তর আফ্রিকার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে অঞ্চলটির ওপর প্রভাব থাকা মানে জ্বালানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং অভিবাসন—সব ক্ষেত্রেই কৌশলগত সুবিধা পাওয়া।
বিশেষ করে ইউরোপের জন্য উত্তর আফ্রিকার স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিবিয়া বা সুদানে সংঘাত বাড়লে তার প্রভাব ভূমধ্যসাগরীয় নিরাপত্তা, শরণার্থী প্রবাহ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধে পড়ে। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ তুলনামূলক ধীর এবং মানবাধিকার ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত থাকে। অন্যদিকে, রাশিয়া, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং স্থানীয় সরকারের সঙ্গে লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম।
স্থানীয় সরকারগুলোর সামনে নতুন সুযোগ
বহু বিদেশি শক্তির উপস্থিতি উত্তর আফ্রিকার সরকারগুলোর জন্য দরকষাকষির নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। অতীতে কোনো দেশ অস্ত্র, ঋণ বা কূটনৈতিক সহায়তার জন্য প্রধানত ইউরোপ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকলে এখন তারা রাশিয়া, চীন, তুরস্ক অথবা উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছেও যেতে পারে।
এই বিকল্পগুলো স্থানীয় সরকারকে বিদেশি শর্ত প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা দেয়। একটি অংশীদার মানবাধিকার, গণতন্ত্র বা অর্থনৈতিক সংস্কারের শর্ত দিলে সরকার অন্য অংশীদারের কাছে সহায়তা চাইতে পারে।
তবে এই স্বাধীনতা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ নাগরিকের পরিবর্তে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সুবিধা বাড়ায়। বিদেশি শক্তিগুলো প্রায়ই রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের চেয়ে নির্দিষ্ট সরকার, সামরিক বাহিনী বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে সহায়তা পেলেও সুশাসন, জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না।
ইউরোপের প্রভাব শেষ হয়নি, তবে দুর্বল হয়েছে
উত্তর আফ্রিকায় ইউরোপের অর্থনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রভাব এখনো গভীর। বাণিজ্য, পর্যটন, অভিবাসন, উন্নয়ন সহায়তা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।
তবে ইউরোপ এখন আর একমাত্র গ্রহণযোগ্য অংশীদার নয়। স্থানীয় সরকারগুলোর সামনে একাধিক বিকল্প থাকায় ইউরোপীয় শর্ত ও চাপের কার্যকারিতা কমছে। কোনো দেশ ইউরোপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও অন্য উৎস থেকে অস্ত্র, অর্থ কিংবা রাজনৈতিক সমর্থন পেতে পারে।
ফলে উত্তর আফ্রিকায় পশ্চিমা প্রভাব পুরোপুরি বিলীন হচ্ছে না; বরং ধীরে ধীরে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন ইউরোপের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অঞ্চলটির অস্থিতিশীলতার সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব ইউরোপকেই বহন করতে হয়।
বহুমুখী প্রতিযোগিতা কি উন্নয়ন আনবে?
বিদেশি শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা উত্তর আফ্রিকার জন্য কিছু ইতিবাচক সুযোগও তৈরি করতে পারে। নতুন বন্দর, সড়ক, জ্বালানি অবকাঠামো এবং শিল্প প্রকল্প কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য বাড়াতে পারে। বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে প্রতিযোগিতা স্থানীয় সরকারকে উন্নত শর্তে চুক্তি করার সুযোগও দিতে পারে।
কিন্তু প্রকল্পগুলোর শর্ত অস্বচ্ছ হলে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা সীমিত গোষ্ঠীর হাতে চলে গেলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবে না। অবকাঠামো নির্মাণের নামে অতিরিক্ত ঋণ, দুর্নীতি বা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা দেয় যখন বিদেশি শক্তিগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক বা সামরিক গোষ্ঠীকে সমর্থন করে। তখন স্থানীয় সংঘাত আর শুধু অভ্যন্তরীণ থাকে না; এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে যায়।
লিবিয়া বহিরাগত প্রতিযোগিতার সতর্কবার্তা
লিবিয়া দেখিয়েছে, একাধিক বিদেশি শক্তি বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করলে একটি গৃহযুদ্ধ কতটা দীর্ঘ হতে পারে। একদিকে তুরস্ক ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারকে সমর্থন করেছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হাফতারের পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছে।
বিদেশি সামরিক সহায়তার কারণে উভয় পক্ষই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা পেয়েছে। কোনো পক্ষ দ্রুত পরাজিত না হওয়ায় রাজনৈতিক সমাধানের চাপও দুর্বল হয়েছে। ফলে সংঘাত দীর্ঘ হয়েছে এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিভক্ত অবস্থায় রয়ে গেছে।
এই অভিজ্ঞতা উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশের জন্যও সতর্কবার্তা। বিদেশি সমর্থন স্বল্পমেয়াদে কোনো সরকার বা গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা জাতীয় বিভাজন আরও গভীর করতে পারে।
উত্তর আফ্রিকার ভবিষ্যৎ কোন পথে?
উত্তর আফ্রিকায় রাশিয়া, উপসাগরীয় দেশ এবং তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধিকে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। এখন আর শুধু কয়েকটি বৈশ্বিক পরাশক্তিই দূরবর্তী অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। মধ্যম শক্তিগুলোও অর্থ, প্রযুক্তি, অস্ত্র, বন্দর, জ্বালানি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য সামরিক প্রবেশাধিকার, কৌশলগত ঘাঁটি এবং পশ্চিমাবিরোধী অবস্থান শক্তিশালী করা। উপসাগরীয় দেশগুলো অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বাড়াচ্ছে। তুরস্ক সামরিক শক্তি, অস্ত্র রপ্তানি, জ্বালানি অধিকার, বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগকে একসঙ্গে ব্যবহার করছে।
তাদের কৌশল আলাদা হলেও একটি বিষয়ে মিল রয়েছে। তারা সাধারণত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, বাস্তব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং রাজনৈতিক শর্তের তুলনায় পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে চুক্তি করতে আগ্রহী।
এর ফলে উত্তর আফ্রিকার সরকারগুলো আরও বেশি অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সমর্থনের উৎস পাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে অঞ্চলটি আরও বিভক্ত, প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং সংঘাতপ্রবণ হয়ে উঠছে।
শেষ পর্যন্ত উত্তর আফ্রিকায় এই শক্তির প্রতিযোগিতা স্থানীয় জনগণের কল্যাণের জন্য পরিচালিত হচ্ছে না। এর মূল লক্ষ্য প্রভাব, জ্বালানি, সামরিক প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কৌশলগত অগ্রগতি অর্জন করা।
উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো যদি বিদেশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতাকে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, তাহলে এই প্রতিযোগিতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজন, দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং বিদেশি পক্ষপাত চলতে থাকলে একই প্রতিযোগিতা নতুন সংঘাত, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে উঠবে।
সুতরাং মূল প্রশ্ন শুধু রাশিয়া, তুরস্ক বা উপসাগরীয় দেশগুলো উত্তর আফ্রিকাকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে কি না। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই পরিবর্তনের নিয়ন্ত্রণ কি উত্তর আফ্রিকার জনগণ ও রাষ্ট্রগুলোর হাতে থাকবে, নাকি অঞ্চলটি আবারও বাইরের শক্তির বৃহত্তর রাজনৈতিক খেলার ক্ষেত্র হয়ে থাকবে?

