কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এ হামলার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, কুয়েতে থাকা একটি মার্কিন ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাদের ভাষ্য, অভিযানে দুটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারে আগুন লাগে। এতে ওই সামরিক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে।
তবে হামলায় মোট কতটি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে আইআরজিসির দাবি, রোববার পরিচালিত ড্রোন অভিযানে কুয়েতে অবস্থানরত অন্তত ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে উভয় পক্ষই সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দাবি প্রকাশ করছে। তবে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রকাশিত এ ধরনের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, হিমার্স যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি উচ্চ গতিশীল, ট্রাকে স্থাপিত বহুমুখী রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা। দূরপাল্লায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এটি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

