গত মাসে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটি। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে জানা গেছে, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৫৬১ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আহত রয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন, আর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
১৪ জুলাই দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ২০ হাজার ২৩১ জন অবস্থান করছেন। এছাড়া ১৭ হাজার ৯০৭ জন এখনো স্থায়ী আবাসনের বাইরে রয়েছেন, যা দেশটির পুনর্বাসন কার্যক্রমের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও উদ্বেগজনক। হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে মোট ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, ফলে বহু মানুষ বাসস্থান হারিয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পনের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি, ভবন ধস এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও ভেনেজুয়েলার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এবং বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও বিপুল সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

