ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ‘সীমিত সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অভিযানের বিষয়ে দেশটির কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো টেমপোরে (অস্থায়ী সভাপতি) চাক গ্রাসলির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার সীমিত সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌবাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম, বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তবে এ অভিযানে কোনো স্থলবাহিনী অংশ নেবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, হামলাগুলো হবে সীমিত, সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা-সংক্রান্ত আইনের বিধান মেনেই কংগ্রেসকে অবহিত করতে তিনি এই চিঠি পাঠিয়েছেন।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করে। এর জবাবে গত তিন দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ কাতার, বাহরাইনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছেন—এমন উদ্বেগ আগে থেকেই প্রকাশ করেছিলেন ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টিরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
গত মাসে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থনে সিনেটে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল, যেখানে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। তবে একদিন পরই সিনেট ওই প্রতীকী ভর্ত্সনা থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত আরেকটি প্রস্তাবও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নাকচ করে দেওয়া হয়।
এর আগে গত বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, এটা (ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি) শেষ হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে দরকষাকষি করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের অসাধারণ মধ্যস্থতাকারীরা যদি তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে আমার আপত্তি নেই। তবে আমি এতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা দেখি না। আমি এসব মানুষকে (ইরানিদের) পছন্দ করি না।’
তার এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলা-পাল্টা হামলার পাশাপাশি ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থান মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সংকট নিরসনের পথকে কঠিন করে দেবে।

