গাজা উপত্যকায় আবারও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি পুলিশ স্টেশনকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশপ্রধানসহ ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া একজন নারী পুলিশ সদস্য ও একজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে পশ্চিম জাবালিয়ার আল-ফালুজা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পরিচালিত একটি গুরুতর হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, হামলার শিকার পুলিশ স্টেশনটি বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি বাজার এলাকায় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছিল।
এদিকে একই দিনে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসেও পৃথক হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি বিমান হামলায় একজন নিহত এবং এক শিশু ও এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েক দিন আগে একই এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়া আরও একজন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকাতেও আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
এসব পৃথক ঘটনার ফলে মঙ্গলবার গাজায় মোট ১১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। টানা সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্র, বাজার এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে হামলার ঘটনায় বেসামরিক মানুষের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২৩৩ জন নিহত এবং এক লাখ ৭৩ হাজার ৭০৭ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও অন্তত ১ হাজার ১১০ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, এই হতাহতের তথ্য বা সর্বশেষ হামলার বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

