মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যবহৃত তেল-গ্যাস রপ্তানির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) আইআরজিসির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিও একই বক্তব্য প্রচার করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে। টানা কয়েক দিনের হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানে হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, প্রয়োজন হলে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পথেও হামলা চালানো হতে পারে। যদিও কোন কোন রুটকে লক্ষ্য করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, “এই অঞ্চলের তেল-গ্যাস রপ্তানি হয় সবার জন্য চালু থাকবে, নয়তো কারও জন্যই থাকবে না।” তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
ইরান আরও জানিয়েছে, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভাষায় “আগ্রাসী কার্যক্রম” চালিয়ে যাবে, ততদিন প্রতিশোধমূলক অভিযানও চলবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ চলাচল করে। ফলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ সংকট এবং তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের মতে, নির্ধারিত পথ ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা উচিত। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ভিন্ন অবস্থান নিয়ে এসেছে।

