ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি সামরিক স্থাপনায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটিকে ইরান ‘সরাসরি আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে এর জবাবে উপযুক্ত সময়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে সতর্ক করেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত সামরিক তথ্য অনুযায়ী, ইবানশাহর এলাকার বামপুর সেনা ব্যারাককে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ব্যারাকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় মোট ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে ব্যারাকে অবস্থানরত ৩৮৮তম ব্রিগেডের সাতজন সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যদিও তাদের সঠিক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আগে থেকেই গ্রহণ করা কিছু প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা এড়ানো গেছে। তারা মনে করছেন, এসব প্রস্তুতি না থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হতে পারত।
ইরানের দাবি, হামলায় ব্যারাকের অতিথিশালা, নিরাপত্তা চৌকি এবং সেনাসদস্যদের আবাসন ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল সামরিক স্থাপনায় অবস্থানরত সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্যের প্রাণহানি ঘটানো।
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ইরানি সামরিক বাহিনী জানায়, এ হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং এর জন্য উপযুক্ত সময় ও পদ্ধতি বেছে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেরও নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে।

