ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালকে ঘিরে যখন ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন ম্যাচের আগেই আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে স্পেনের। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে দেওয়া নেতানিয়াহুর শুভকামনার বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের সমর্থনের কথা প্রকাশ করেন। বৈঠক চলাকালে রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে একটি বার্তাও তার কাছে পৌঁছে দেন।
এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, হাভিয়ের মিলেই ইসরাইলের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি আর্জেন্টিনাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমর্থন করার কথা উল্লেখ করে আসন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্যও শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার জন্য তার শুভেচ্ছা ও সাফল্য কামনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুভেচ্ছা বার্তা শুধুই ফুটবল ঘিরে আবেগের প্রকাশ নয়; এর পেছনে দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলনও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইসরাইলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর এই বার্তাকে অনেকেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ হিসেবেও দেখছেন।
অন্যদিকে, এবারের ফাইনালকে অনেক পর্যবেক্ষক প্রতীকী গুরুত্বের একটি ম্যাচ বলেও উল্লেখ করছেন। কারণ ইসরাইল-সম্পর্কিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার অবস্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এই ভিন্ন অবস্থানের কারণে ফুটবল মাঠের বাইরেও ম্যাচটি নানা আলোচনা ও ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ফাইনালকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য এবং ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানোর ঘটনাও নজরে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনায় ফুটবলপ্রেমীদের মূল আকর্ষণ এখন মাঠের লড়াই।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা, আর প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই নেতানিয়াহুর শুভকামনার বার্তা বিশ্বকাপের এই মহারণকে ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত করেছে।

