মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ইরান স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সামরিক হামলা চালালে তার জবাব হবে ‘কঠোর’ এবং ‘ধ্বংসাত্মক’। এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পাল্টা জবাব হবে দৃঢ় এবং শক্তিশালী।
আলী আবদুল্লাহি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু সামরিক সক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী, সরকার এবং জনগণের মধ্যে ঐক্য আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামরিক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের প্রতিপক্ষ এখন দেশটির জনগণ ও নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এমন কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের এই কড়া বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের খবর সামনে আসছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এর আগে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযান শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযুক্ত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
অন্যদিকে, ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকার কাছাকাছি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরানও কঠোর পাল্টা জবাবের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা যদি কূটনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় দুই পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির পাশাপাশি স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত। তাই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং নতুন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাপ্রবাহের মূল্যায়নেও পরিবর্তন আসতে পারে।

