যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন একটি সংকট সামনে এসেছে, যা শুধু সামরিক বাজেটের অপচয়ের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশটির যুদ্ধপ্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শিল্পনীতি, কর্মসংস্থান এবং বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার সামর্থ্য। বিশ্লেষণটির মূল বক্তব্য হলো—যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষায় বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সেই অর্থের বিনিময়ে প্রয়োজনীয় গতি, উদ্ভাবন ও উৎপাদনক্ষমতা পাচ্ছে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সামরিক কুচকাওয়াজ, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বরখাস্ত এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নানা বিতর্ক সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ পেয়েছে। কিন্তু এসব দৃশ্যমান ঘটনার আড়ালে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী একটি সমস্যা রয়েছে। ১৯৮০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া ক্রমেই ধীর, ব্যয়বহুল এবং আমলাতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে।
বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রকে একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষ ও সংঘাতের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শুধু শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকলেই এখন আর যথেষ্ট নয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, নতুন প্রযুক্তি মাঠে নামানো, অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উৎপাদন করা এবং পরিবর্তিত যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তাল মেলানোর সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয় করার পরও যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক যুদ্ধের জন্য নিজের সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারেনি। বিশেষ করে অতিধ্বনি অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় সামরিক যন্ত্র এবং দলবদ্ধ ড্রোন উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশটি চীনের তুলনায় পিছিয়ে আছে।
২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য ২৪.৪ বিলিয়ন ডলার এবং সেন্টিনেল আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য ৩.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। সমালোচকদের মতে, প্রচলিত আধুনিক যুদ্ধে জয়ী হওয়া কিংবা প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত রাখার ক্ষেত্রে এই দুই প্রকল্পের তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে রয়েছে।
সমস্যা অর্থের অভাব নয়, অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতিতে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংকটকে শুধু বাজেটের ঘাটতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং সমস্যাটি হলো—অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং সেই ব্যয়ের ফল কত দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে।
কংগ্রেস ও প্রতিরক্ষা দপ্তর—দুই পক্ষই স্বীকার করে যে দেশটি সামরিক খাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দাম দিয়ে কম ফল পাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি দক্ষতা বিভাগও পেন্টাগনের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছিল। তবে সেই উদ্যোগ মূল কাঠামোগত দুর্বলতার দিকে না গিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি–সংক্রান্ত প্রকল্পকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। শেষ পর্যন্ত পেন্টাগনের মোট বাজেটের মাত্র ০.৫৯ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়।
এতে বোঝা যায়, ছোট ছোট প্রকল্প বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রতিযোগিতার অভাব, দীর্ঘসূত্রতা, পুরোনো অস্ত্রের প্রতি রাজনৈতিক আসক্তি এবং জবাবদিহির দুর্বলতাই মূল বাধা।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রতিরক্ষা শিল্প
বর্তমান সংকটের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ১৯৯৩ সালে। সে সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেস অ্যাসপিন ও উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী উইলিয়াম পেরি বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি ‘শেষ নৈশভোজ’ নামে পরিচিত হয়।
সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূত হওয়ার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর প্রতিযোগিতাবিরোধী ব্যবস্থা নেবে না—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছিল। শীতল যুদ্ধের পর প্রতিরক্ষা ব্যয় কমতে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
কিন্তু ফল হয়েছিল বিপরীত। একের পর এক প্রতিষ্ঠান একীভূত হতে থাকে। ৫১টি বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান কমতে কমতে ১৯৯৭ সালের মধ্যে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যে চলে আসে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স, বোয়িং, জেনারেল ডায়নামিক্স ও নর্থরপ গ্রুম্যান।
এই কেন্দ্রীকরণের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যায়। নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশ কঠিন হয় এবং বড় ঠিকাদারদের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়তে থাকে। প্রতিযোগী কম থাকলে দাম কমানোর চাপও থাকে না। সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করলেও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকল্প পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে এফ-৩৫ যৌথ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে ফোর্ড শ্রেণির বিমানবাহী রণতরী পর্যন্ত প্রায় সব বড় ক্রয় প্রকল্প হয় নির্ধারিত বাজেট ছাড়িয়েছে, নয়তো সময়সূচি থেকে পিছিয়েছে।
তিন গুণ বেশি ব্যয়, তবু উৎপাদনে পিছিয়ে
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষায় চীনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে। তারপরও জাহাজ, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধপ্রযুক্তির উৎপাদনক্ষমতায় চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের নৌবাহিনীতে ৪৩৫টি জাহাজ থাকতে পারে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে জাহাজ থাকার কথা ২৯৭টি।
সংখ্যার এই পার্থক্য শুধু জাহাজের হিসাব নয়। এটি দুই দেশের শিল্পক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন পরিকল্পনার ব্যবধানও তুলে ধরে।
ড্রোন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ব্যবধান আরও বিস্ময়কর। চীন২০২৬ সালে একমুখী আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম প্রায় ১ মিলিয়ন ড্রোন তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যদিকে পেন্টাগনের পরিকল্পনা হলো পরবর্তী কয়েক বছরে প্রায় ৩০০০০০ আক্রমণ ড্রোন তৈরি করা।
অর্থাৎ যে পরিমাণ ড্রোন চীন এক বছরে বানাতে চায়, যুক্তরাষ্ট্র তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে কয়েক বছরের জন্য। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কমদামি ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বাড়তে থাকায় এই উৎপাদন ব্যবধান ভবিষ্যতে বড় কৌশলগত দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে।
বাণিজ্যিক প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প সবসময় এত ধীর ছিল না। ১৯৮৯ সালে দেশটির প্রায় সব বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারেরই উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক ব্যবসা ছিল। বাণিজ্যিক বাজারে যুক্ত থাকায় তারা দক্ষ কর্মী ধরে রাখতে পারত, নতুন প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ করত এবং সামরিক ব্যয় ওঠানামা করলেও উৎপাদনক্ষমতা সচল রাখতে পারত।
বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক ব্যবসা খুব কম বা একেবারেই নেই, তারা পেন্টাগনের বড় প্রকল্পগুলোর মোট আর্থিক মূল্যের ৬০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে।
এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক যন্ত্রাংশ, উন্নত সফটওয়্যার, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও কম খরচের উৎপাদনকৌশল প্রতিরক্ষা খাতে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। বড় ঠিকাদারেরা সরকারি নিয়ম পালনের জন্য বিশাল প্রশাসনিক বিভাগ গড়ে তুললেও নতুন ও ছোট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো একই ব্যবস্থা সামলাতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে।
প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে। ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মীসংখ্যা ছিল ৩ মিলিয়ন। ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১.১ মিলিয়নে।
অর্থাৎ বিপুল বাজেট থাকা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্মসংস্থান ও উৎপাদনভিত্তি আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে।
কংগ্রেসের দায়িত্ব কেন সবচেয়ে বেশি
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদের 8 নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন, সামরিক বাহিনীর অর্থায়ন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব কংগ্রেসের।
পেন্টাগন কোন প্রকল্পে কত অর্থ চাইবে, তা প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রস্তাব করতে পারে। কিন্তু অর্থ অনুমোদনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। ফলে অকার্যকর প্রকল্প টিকিয়ে রাখা কিংবা নতুন প্রযুক্তিকে দ্রুত অর্থায়ন—দুই ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের ভূমিকা নির্ধারক।
সমস্যা হলো, কংগ্রেসের সদস্যদের সিদ্ধান্ত সবসময় সামরিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে হয় না। নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের চাকরি, কারখানা, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক সমর্থন রক্ষার বিষয়ও প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
কোনো পুরোনো বিমান বা জাহাজ সামরিকভাবে অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেলেও সেটির উৎপাদন কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে স্থানীয় কর্মসংস্থান যুক্ত থাকলে কংগ্রেস সদস্যরা প্রকল্পটি বন্ধ করতে চান না। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন এবং স্থানীয় রাজনীতির স্বার্থের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়।
প্রতিযোগিতা বাড়াতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন
প্রতিরক্ষা শিল্পের কাঠামোগত সংকট কাটাতে শুধু নিয়মকানুনে সামান্য পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য কমাতে আরও কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনে প্রতিযোগিতাবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কারখানা ও উৎপাদনব্যবস্থা কোথায় বাড়ানো দরকার, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এমন উদ্যোগ একদিকে বেসরকারি ঠিকাদারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাবে, অন্যদিকে ভালো বেতনের নতুন উৎপাদনভিত্তিক চাকরি তৈরি করতে পারে।
যেসব প্রতিরক্ষা ঠিকাদার সময়মতো প্রকল্প শেষ করতে পারে না কিংবা বারবার বাজেট অতিক্রম করে, তাদের শেয়ার পুনঃক্রয় এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক সীমিত করার প্রস্তাবও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রকল্পে ব্যর্থ হওয়ার পরও যদি নিজস্ব শেয়ার কিনে বাজারমূল্য বাড়াতে এবং কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক দিতে পারে, তাহলে জবাবদিহির ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য দরজা খোলার চেষ্টা
প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ইউনিট নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সামরিক ক্রয়ব্যবস্থায় যুক্ত করার একটি তুলনামূলক সফল উদ্যোগ।
প্রথমে এটি পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও ২০২৩ সালে কংগ্রেস আইন করে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান শক্তিশালী করে এবং অর্থায়ন বাড়ায়।
২০১৬ থেকে ২০২৩সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৪৫০টি আলাদা প্রতিষ্ঠানকে নমুনা প্রযুক্তি তৈরির চুক্তি দিয়েছে। এসব নমুনার ৫১ শতাংশ পরবর্তী সময়ে সরাসরি উৎপাদন পর্যায়ে গেছে। এর মধ্যে শিল্ড এআই ড্রোনের মতো সফল প্রকল্পও রয়েছে।
তবে নমুনা সফল হলেই সামরিক বাহিনী সেটি গ্রহণ করে না। বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ অনেক সময় নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে চায় না। তারা পরিচিত পুরোনো ব্যবস্থা ও বড় ঠিকাদারদের প্রকল্পেই অর্থ দেওয়া অব্যাহত রাখে।
এখানে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব দেখা যায়। ছোট প্রতিষ্ঠান দ্রুত ও কম খরচে ভালো প্রযুক্তি দিতে পারলেও তারা পেন্টাগনের কঠোর শর্ত পূরণে হিমশিম খায়। অন্যদিকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম পালনে দক্ষ হলেও তাদের প্রকল্প প্রায়ই ধীর ও ব্যয়বহুল হয়।
বি-২১ প্রকল্প থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায়
পরবর্তী প্রজন্মের গোপনক্ষমতাসম্পন্ন বোমারু বিমান বি-২১ একটি ভিন্ন ধরনের ক্রয়কৌশলের উদাহরণ।
২০১৫ সাল থেকে এই বিমানের যন্ত্রাংশ একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের হাতে না দিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রধান ঠিকাদার নর্থরপ গ্রুম্যান হলেও বিমানের সম্পূর্ণ প্রযুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়নি।
এর ফলে ভবিষ্যতে ছোট ও দ্রুতগতির প্রতিষ্ঠানও বিমানের বিভিন্ন অংশ আধুনিকায়নের সুযোগ পাবে। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণে পুরো প্রকল্প আটকে থাকার ঝুঁকি কমবে।
প্রকল্পটিতে দ্রুত চুক্তি করার বিশেষ ক্ষমতাও ব্যবহার করা হয়েছিল। আমলাতান্ত্রিক ধাপ কমানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রীভূত করার কারণে উন্নয়ন তুলনামূলক দ্রুত ও কম ব্যয়ে এগিয়েছে।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কংগ্রেস ২০১৯ সাল থেকে সব বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্পে উন্মুক্ত প্রযুক্তিকাঠামো ব্যবহারের নির্দেশ দেয়। ২০২১ সালে এই নিয়ম সব ক্রয় প্রকল্পে সম্প্রসারণ করা হয়।
এই মডেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একটি অস্ত্র বা যান তৈরির পর সেটিকে আধুনিক করার জন্য সব সময় মূল ঠিকাদারের ওপর নির্ভর করতে হয় না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার, যন্ত্রাংশ ও নতুন সক্ষমতা যোগ করতে পারে।
পুরোনো অস্ত্র ধরে রাখার রাজনৈতিক মূল্য
১৯৪৫ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল হ্যাপ আর্নল্ড বলেছিলেন, আজকের অস্ত্র আগামী দিনের জাদুঘরের বস্তু। আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে কথাটি আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।
তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটের বড় একটি অংশ এমন সব পুরোনো ব্যবস্থা চালু রাখতে ব্যয় হয়, যেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সামরিক কর্মকর্তারাই প্রশ্ন তুলেছেন।
এ-১০ বিমান এর অন্যতম উদাহরণ। ১৯৭০-এর দশকে তৈরি দুই ইঞ্জিনের এই বিমানটি কাছাকাছি দূরত্ব থেকে স্থলবাহিনীকে সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়।
২০১৪ সালেই বিমানবাহিনী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সুরক্ষিত যুদ্ধক্ষেত্রে এ-১০ টিকে থাকতে পারবে না। এটি চালু রাখলে নতুন প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, বৈমানিক এবং রক্ষণাবেক্ষণকর্মী আটকে থাকবে।
তারপরও স্থানীয় চাকরি রক্ষার যুক্তিতে কংগ্রেস এক দশকের বেশি সময় বিমানটি পুরোপুরি অবসরে পাঠাতে বাধা দিয়েছে। এর মধ্যে পেন্টাগনকে বিমানটির পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।
বর্তমানে কংগ্রেস 2030 সাল পর্যন্ত বিমানটিকে উড্ডয়ন ও যুদ্ধের উপযোগী রাখতে চায়। পাশাপাশি এর বিকল্প হিসেবে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজের ব্যয়বহুল অভিজ্ঞতা
এলসিএস নামে পরিচিত উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ প্রকল্পেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
বহুমুখী ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে জাহাজগুলো তৈরি করা হলেও উৎপাদন খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা ও কার্যকারিতা নিয়ে নৌবাহিনীর ভেতর থেকেই সমালোচনা ওঠে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা ২০২১ সালের বাজেট প্রস্তাব থেকে কয়েকটি জাহাজ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু কংগ্রেসের সমর্থকেরা মনে করেছিলেন, জাহাজগুলো চালু রাখলে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণশিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়বে। অন্যান্য নৌপ্রকল্পের বিলম্ব সামাল দিতেও এগুলো সহায়ক হতে পারে।
বর্তমানে অনেক জাহাজ অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের একজন সামরিক বিশ্লেষকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো এলসিএস কর্মসূচির আয়ুষ্কালব্যাপী খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি হতে পারে।
এটি দেখায়, প্রকল্পের শুরুতে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরে সেটি বন্ধ করাও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। কারণ তখন কারখানা, কর্মী, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয় অর্থনীতি প্রকল্পটির সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
সেন্টিনেল প্রকল্পের ব্যয় কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
সেন্টিনেল আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বর্তমান আনুমানিক ব্যয় অন্তত ১৪০.৯ বিলিয়ন ডলার।
প্রকল্পটি ২০৩০-এর দশকের শুরুর আগে প্রাথমিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী হবে না। মূল ব্যয় হিসাবের তুলনায় এর খরচ ইতিমধ্যে ৮১ শতাংশ বেড়েছে এবং সময়সূচিও উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়েছে।
এই ব্যয়ের ব্যাপকতা বোঝাতে একটি তুলনা করা হয়েছে। সেন্টিনেল ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য পারমাণবিক কর্মসূচিতে ওয়াশিংটন প্রতিবছর যে অর্থ ব্যয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা পুরো ম্যানহাটন প্রকল্পের ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ম্যানহাটন প্রকল্প ছিল জরুরি পরিস্থিতিতে নেওয়া একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। অথচ এখন তার দ্বিগুণের বেশি অর্থ প্রতিবছরের নিয়মিত ব্যয়ের অংশে পরিণত হচ্ছে।
দেশের অভ্যন্তরে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো জরুরি প্রয়োজন থাকা অবস্থায় এমন ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
বহু বছরের চুক্তি উৎপাদন বাড়াতে পারে
সব বড় প্রকল্প বাতিল করাই সমাধান নয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র দ্রুত ও বড় পরিমাণে উৎপাদনের জন্য স্থিতিশীল অর্থায়নও প্রয়োজন।
বহু বছরের ক্রয়চুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যৎ চাহিদা সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেয়। ফলে তারা নতুন কর্মী নিয়োগ, কারখানা সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি কেনা এবং সরবরাহকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে আগ্রহী হয়।
এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে সাধারণত ৫থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমানো সম্ভব।
আগে ভার্জিনিয়া শ্রেণির আক্রমণ সাবমেরিন ও আর্লি বার্ক শ্রেণির ধ্বংসকারী জাহাজের মতো অল্প কয়েকটি প্রকল্পে বহু বছরের চুক্তি ব্যবহার করা হতো।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারে, দেশটির গোলাবারুদের মজুত প্রয়োজনের তুলনায় কম। এরপর কংগ্রেস ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য বহু বছরের ক্রয়চুক্তি অনুমোদন করে।
এর ফলে যৌথ আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
২০২৩ সালে বছরে ৫০০টির সামান্য বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হতো। ২০২৬ সালে তা বছরে ১১০০টিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
একই কৌশল আকাশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ ও পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যানের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালিতে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কমদামি ও বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সামরিক বাহিনীর বিভাগীয় স্বার্থ বনাম যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজন
প্রতিরক্ষা বাজেটের আরেকটি দুর্বলতা হলো, বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেয়। অথচ বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সামরিক কমান্ডগুলো বাস্তব হুমকি সম্পর্কে তুলনামূলক ভালো ধারণা রাখে।
২০২২ সালে নৌবাহিনী চারটি উভচর জাহাজ অবসর দিতে এবং বড় উভচর যুদ্ধজাহাজ কেনা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে চেয়েছিল।
কিন্তু আফ্রিকা, ইউরোপ ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা কমান্ডারেরা এসব জাহাজকে হুমকি মোকাবিলা ও প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছিলেন।
২০২১ সালের প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রতিরোধ উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বাহিনীর বিভাগীয় পরিকল্পনাকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
কিন্তু উদ্যোগটির জন্য আলাদা অর্থভান্ডার তৈরি করা হয়নি। পেন্টাগন শুধু বিদ্যমান বাজেটের কোন অংশ ওই অঞ্চলের জন্য ব্যয় হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে জানায়।
ফলে বাস্তবে নতুন সক্ষমতা তৈরির বদলে অনেক পুরোনো ব্যয়কেই নতুন নাম দিয়ে উদ্যোগটির আওতায় দেখানো হয়েছে।
এই দুর্বলতা কাটাতে ইউরোপীয় প্রতিরোধ উদ্যোগের মতো আলাদা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রতিরোধ তহবিল তৈরির প্রস্তাব এসেছে। সেখানে অর্থের ব্যবহার কংগ্রেস এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডের প্রধানের নির্ধারিত প্রয়োজন অনুযায়ী হওয়া উচিত।
গুয়ামে চীনের দূরপাল্লার, অতিধ্বনি ও সাধারণ গতির ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণের জন্য ওই কমান্ড নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। কিন্তু পেন্টাগনের বার্ষিক বাজেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে তাদের বারবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
সাময়িক বাজেটও তৈরি করছে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন এবং প্রতিরক্ষা বরাদ্দ বিল এমন কিছু আইনের মধ্যে পড়ে, যেগুলো নিয়ে এখনো দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে তুলনামূলক ঐকমত্য দেখা যায়।
কিন্তু সরকার অচল হয়ে গেলে সময়মতো পূর্ণাঙ্গ বাজেট পাস করা কঠিন হয়। তখন আগের বছরের ব্যয় প্রায় অপরিবর্তিত রেখে সাময়িক অর্থায়ন চালু করা হয়।
গত দেড় দশকে এ ধরনের সাময়িক অর্থায়নের ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে নতুন প্রকল্প শুরু করা যায় না, উৎপাদন পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়, ব্যয় বাড়ে এবং সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পুরোনো বাজেটের কাঠামো বহাল থাকায় অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ করাও কঠিন হয়। আবার জরুরি নতুন প্রযুক্তির জন্য দ্রুত অর্থ ছাড় করা যায় না।
সমস্যাটি নিয়মিত হয়ে ওঠায় কংগ্রেস ও পেন্টাগনকে হয়তো সাময়িক অর্থায়নকে ব্যতিক্রম নয়, বরং বাস্তবতা হিসেবে ধরে নিয়ে নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
পূর্ণাঙ্গ বরাদ্দ বিল না থাকলেও প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের ভিত্তিতে জরুরি নতুন কর্মসূচি শুরু করার সীমিত সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এই আইন ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত পাস হয়ে আসছে।
নিরীক্ষায় ব্যর্থতা বিশ্বাসের সংকট বাড়াচ্ছে
পেন্টাগনকে বাড়তি আর্থিক স্বাধীনতা দিতে হলে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে করদাতাদের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০১৮ সাল থেকে কংগ্রেস প্রতিরক্ষা দপ্তরের আর্থিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। তারপরও অধিকাংশ সামরিক বিভাগ এবং সামগ্রিকভাবে পেন্টাগন এখন পর্যন্ত স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত নিরীক্ষা পাস করতে পারেনি।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা হুমকি হ্রাস সংস্থা সফল নিরীক্ষার জন্য প্রশংসা পেয়েছে।
একদিকে পেন্টাগন দ্রুত অর্থ ব্যয়ের স্বাধীনতা চাইছে, অন্যদিকে কোথায় কত অর্থ ও সম্পদ রয়েছে, সে হিসাবও নির্ভুলভাবে দিতে পারছে না। এই দ্বন্দ্ব কংগ্রেসের আস্থা কমিয়ে দেয়।
যোগাযোগের ঘাটতিও বড় বাধা
প্রতিরক্ষা দপ্তর ও কংগ্রেসের মধ্যে আস্থার পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদানও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা এবং পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিটির সদস্যরা সামরিক হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
কোন অঞ্চলে কী ধরনের সক্ষমতা দরকার, কতজন কর্মী প্রয়োজন এবং কী ধরনের প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে—এসব তথ্য স্পষ্ট না হলে কংগ্রেসের পক্ষে সঠিক খাতে অর্থ বরাদ্দ করা কঠিন।
ফলে কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ হয়, আবার কোথাও জরুরি সক্ষমতা অর্থের অভাবে আটকে থাকে।
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের শুধু নতুন অস্ত্রের তালিকা দিলে হবে না। তাদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে—বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা কী, সেই সমস্যা মোকাবিলায় কোন সক্ষমতা দরকার এবং কোন পুরোনো ব্যবস্থা বন্ধ করলে অর্থ ও জনবল মুক্ত হবে।
মূল সংকট হলো ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে—অর্থ কমানো হবে, না আরও বাড়ানো হবে। কিন্তু প্রকৃত প্রশ্নটি শুধু বাজেটের আকার নয়।
একটি দেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেও যদি প্রয়োজনীয় জাহাজ, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তি সময়মতো তৈরি করতে না পারে, তাহলে সেই ব্যয়কে সফল বলা যায় না।
প্রতিরক্ষা শিল্পে মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য, অতিরিক্ত আমলাতন্ত্র, পুরোনো প্রকল্প রক্ষার রাজনৈতিক চাপ, সময়মতো বাজেট পাস না হওয়া এবং আর্থিক নিরীক্ষায় ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে সমস্যাটি সমাধানের বাইরে নয়। প্রতিযোগিতা বাড়ানো, নতুন প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া, উন্মুক্ত প্রযুক্তিকাঠামো বাধ্যতামূলক করা, অকার্যকর প্রকল্প বন্ধ করা, বহু বছরের উৎপাদন চুক্তি বাড়ানো এবং কংগ্রেস-পেন্টাগন যোগাযোগ শক্তিশালী করা গেলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
সামরিক শক্তি শুধু কত অর্থ ব্যয় করা হলো, তা দিয়ে মাপা যায় না। সেই অর্থ কত দ্রুত কার্যকর সক্ষমতায় রূপান্তরিত হলো, কত অস্ত্র উৎপাদিত হলো, নতুন প্রযুক্তি কত দ্রুত বাহিনীর হাতে পৌঁছাল এবং করদাতারা তার বিনিময়ে কতটা নিরাপত্তা পেলেন—সাফল্যের প্রকৃত পরিমাপ হওয়া উচিত সেটিই।
বর্তমান গতিতে চললে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল প্রতিরক্ষা বাজেট তার সবচেয়ে বড় শক্তি না হয়ে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে। আর সংস্কার সফল হলে একই অর্থ দিয়েই দেশটি আরও দ্রুত, আধুনিক ও কার্যকর সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে পারবে।

