মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ বেড়েছে। এবার কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। রোববার (১৯ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েতে অবস্থিত ক্যাম্প আল-আদি সামরিক ঘাঁটির একটি গোলাবারুদ গুদাম এবং আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমান প্রতিরক্ষা রাডার। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব স্থাপনা লক্ষ্য করেই ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে বলে ইরানের অভিযোগ। এর জবাবে তেহরানও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের এই ধারা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। একদিকে হামলার পরিধি বাড়ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাগুলোও সংঘাতের আওতায় চলে আসছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই উদ্যোগকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমেনি। বরং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযানের কারণে সেই সমঝোতার কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির কারণে ঘটনাগুলোর প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত করতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের গুরুত্বও বাড়ছে।

