ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে কেরমানশাহ প্রদেশের কুজারান এলাকায় অনুভূত এই ভূমিকম্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সময় সকালেই প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ২ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথম কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে একই এলাকায় দ্বিতীয় আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় এর কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ভবন ধসে পড়া বা প্রাণহানির বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর মাত্র একদিন আগেও ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের সারান্দ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশটির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে ইরান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটি আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই দুটি প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়ার ফলে দেশজুড়ে নিয়মিত ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ভূকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরমানশাহ, খুজেস্তান এবং হরমোজগানের মতো পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব এলাকায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও অগভীর গভীরতায় উৎপন্ন হলে জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

