উত্তর ইরাকে ইরানের হামলার পর উদ্ধার করা একটি ড্রোনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন সেনা। শনিবারের এ ঘটনার তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এর আগের দিন জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় দুই সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। পরে তল্লাশি অভিযানে অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন থেকে উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ (কন্ট্রোলড ডিটোনেশন) ঘটানোর সময় ওই সেনাসদস্য প্রাণ হারান। বিস্ফোরণে দ্বিতীয় একজন সেনাও আহত হন।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, জর্ডানে শুক্রবারের হামলার স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে উভয় দেশই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তুলেছে।
যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, তাদের সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য ইরানের সম্ভাব্য হুমকি কমিয়ে আনা এবং জর্ডানে হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযুক্ত ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া।
এদিকে জর্ডানের সামরিক ঘাঁটি থেকে ধারণ করা ভিডিওতে একাধিক বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখা গেছে। নিখোঁজ নৌবাহিনীর এক পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার দাবি করলেও যুদ্ধক্ষেত্রের অনেক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

