রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। রাতভর ড্রোন হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং আশপাশের একাধিক অঞ্চল লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রাজধানীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সবচেয়ে বড় ড্রোন অভিযানের একটি ছিল এটি।
রাশিয়ার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিকও রয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, সোমবার (২০ জুলাই) রাতভর ইউক্রেনের দিক থেকে ৪০০টিরও বেশি ড্রোন ছোড়া হয়। তার দাবি, রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসা ৮৫টি ড্রোন মাঝপথেই রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে। অধিকাংশ ড্রোন রাজধানীর সীমানায় পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মাধ্যমে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা হলেও পোডোলস্ক, ডমোদেডোভো এবং ওডিনত্সোভো জেলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক স্থানে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। কিছু বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইউক্রেন-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পর্যবেক্ষণকারী চ্যানেলের দাবি, হামলায় মস্কো অঞ্চলের কোলেদিনো গ্রামের একটি বড় লজিস্টিক কেন্দ্র, ডমোদেডোভো জেলার ইউঝনি ভোরেতা লজিস্টিক পার্ক এবং লভোভস্কি এলাকার একটি তেল সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ডমোদেডোভো শহরের প্রশাসনিক প্রধান এভজেনিয়া খুরস্তালেভাও ইউঝনি ভোরেতা এলাকায় হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে দাবি করা ক্রিমিয়া এবং আজভ ও কৃষ্ণসাগরের আকাশে মোট ৩৮১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীও পাল্টা দাবি করেছে, একই রাতে রাশিয়া তাদের ভূখণ্ডে দুটি নির্দেশিত বিমান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৯৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের আকাশে ৮১টি ড্রোন ধ্বংস অথবা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে।
যুদ্ধ চলমান থাকায় উভয় পক্ষের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও হামলার পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোনভিত্তিক হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা যুদ্ধের কৌশলে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা এখন উভয় পক্ষের অন্যতম প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ফ্রন্টেই নয়, অর্থনীতি, পরিবহন ও বেসামরিক জীবনেও আরও গভীরভাবে পড়ছে।

