ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে শহরে এলে আটক করার সম্ভাব্য আইনি পথ খতিয়ে দেখার কথা বলার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এমন একটি সংঘাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ এবং মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ গ্রহণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নেতানিয়াহু যদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসেন, তাহলে তাকে আটক করার কোনো আইনি সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে শহরের আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অভিযোগ রয়েছে এবং তার বিচার হওয়া উচিত।
মেয়রের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এক বিবৃতিতে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এবং আদালতের এখতিয়ারও প্রত্যাখ্যান করে। ইসরায়েলের অবস্থান হলো, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয় এবং আদালতের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য রাষ্ট্র নয়। ফলে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। এ কারণেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনা থাকলেও, ট্রাম্পের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে তার প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে ঘিরে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি জটিল সমীকরণকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আগামী দিনেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকতে পারে।

