যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপ, হুমকি কিংবা প্রলোভনে ইরান তার নীতিগত অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য যেকোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের চেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই দর-কষাকষির বিষয় নয়।
রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার সময় ইরানের কাছে নানা ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেসব প্রস্তাবকে তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলো তাকে ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং পুরো ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কোনোভাবেই বিক্রির বা বিনিময়ের বিষয় নয়।
আরাগচি বলেন, হুমকি কিংবা ঘুষ—কোনোটিই ইরানের নীতিকে পরিবর্তন করতে পারবে না। তার মতে, ভয় দেখানো কার্যকর হয় কেবল তাদের ক্ষেত্রে যারা ভয় পায়, আর ইরান সেই অবস্থানে নেই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেও তেহরানের মৌলিক কৌশল ও জাতীয় নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইরান আগের মতোই নিজের কৌশলগত ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্বার্থ রক্ষায় অটল রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। আরাগচির দাবি, ইরানের মিত্র ও প্রতিপক্ষ—উভয় পক্ষই এখন উপলব্ধি করছে যে দেশটির সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তিগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালী, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ এবং সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই অবস্থান নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান একদিকে কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়েও দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে ইরানের এসব বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

