ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে আটক হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা এখনো জানেন না বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। ঘটনাটি ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে লোককল্যাণ মার্গে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন রাহুল গান্ধী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের আরও কয়েকজন নেতা। কর্মসূচি চলাকালে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে রাহুল গান্ধীকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে রাহুল গান্ধীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য গোপন করছে। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে জানতে চাইলেও পুলিশ কোনো স্পষ্ট উত্তর দিচ্ছে না, যা উদ্বেগের বিষয়।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এ ধরনের কর্মসূচি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে কংগ্রেস এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের অবস্থান কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অংশ হিসেবেই তা পালন করা হচ্ছিল।
আটকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া পুলিশি হামলার জবাব চাইতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এ বিষয়ে কোনো জবাবদিহি করতে চায় না এবং সংসদেও আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
পরবর্তীতে আরেকটি বার্তায় রাহুল গান্ধী দেশবাসীর প্রতি আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা শুধু কয়েকজনের ওপর নয়, বরং দেশের প্রতিটি পরিবারের ভবিষ্যতের ওপর আঘাত। যারা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য বিচার চান, তাদের সবাইকে আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সোমবার সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের পদযাত্রায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার আবারও শত শত শিক্ষার্থী ও বিরোধী সমর্থক যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের কঠোর অবস্থান তাদের আন্দোলন থামাতে পারেনি; বরং ন্যায়বিচারের দাবিতে তারা আরও দৃঢ় সংকল্পে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

