মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে। জর্ডানের মোফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলার পর নিখোঁজ থাকা এক মার্কিন সেনাকে মৃত বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ। এর ফলে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) পেন্টাগন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত ২৮ বছর বয়সী ওই সেনার অবস্থার নতুন মূল্যায়ন করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর দাপ্তরিক অবস্থান পরিবর্তন করে ‘অবস্থান অজানা, তবে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মোফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলার সময় ওই সেনা নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তাঁর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে একই হামলায় ঘটনাস্থলেই আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল পেন্টাগন। সর্বশেষ এই হালনাগাদের পর ওই হামলার হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে গেল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও অনেক সেনাসদস্য, যাদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডান, ইরাক, সিরিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনারা বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। এসব এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক প্রাণহানির ঘটনা ও বাড়তে থাকা সামরিক ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ—সবকিছুই এখন নতুন করে আন্তর্জাতিক নজরদারির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

