ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির এক শুনানিতে এই তথ্য তুলে ধরেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
তিনি জানান, আগের প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। নতুন এই হিসাব তৈরির সময় শুধু বর্তমান ব্যয় নয়, চলতি অর্থবছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য সামরিক ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চলতি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এই প্রথম কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের সামনে হাজির হয়ে যুদ্ধের আর্থিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। শুনানিতে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
শুনানিতে বিভিন্ন সিনেটর যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সামরিক কৌশল নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। অনেক আইনপ্রণেতার মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়বে, যার চাপ পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সরকারি বাজেটের ওপর।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলমান সামরিক অভিযান, সেনা মোতায়েন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের ব্যয়, রসদ সরবরাহ এবং আগামী কয়েক মাসের সম্ভাব্য সামরিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়েই ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ব্যয় যত বাড়ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই সামরিক অভিযানের আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত কতটা বহন করতে হবে এবং এর প্রভাব সাধারণ নাগরিকদের ওপর কীভাবে পড়বে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম এবং সরকারি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে যুদ্ধের অতিরিক্ত ব্যয় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিপুল সামরিক ব্যয় এবং দীর্ঘায়িত সংঘাতের কারণে দেশটির একটি অংশের নাগরিকের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। যুদ্ধের সময়সীমা যত দীর্ঘ হবে, ব্যয়ের অঙ্কও তত বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

