ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন না বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলা অব্যাহত থাকবে এবং এর জন্য তেহরানকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঘটনা বাড়লেও সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিপক্ষে অবস্থান নেননি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও তারা যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে নয়। তবে তিনি কোন জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা সূত্র উল্লেখ করেননি।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, চলমান হামলায় ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য কঠিন মূল্য দিতে হবে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে বিভিন্ন জনমত জরিপ ও বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একাধিক জরিপে দেখা গেছে, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব, সেনা হতাহতের সংখ্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ নীতির ওপর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জনমতও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যুদ্ধ ও কূটনীতির মধ্যে কোন পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেটি আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

