মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর থেকে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশের পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল প্রায় ৭টার দিকে দেশটির বুশেহর অঞ্চলের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, একই দিনে ওই এলাকায় এটি ছিল দ্বিতীয় হামলা। প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে।
বুশেহরের উপ-গভর্নরের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এর কিছুক্ষণ পর খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেস্ক শহরের উপকণ্ঠেও আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর আসে। প্রাদেশিক প্রশাসনের বরাত দিয়ে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, ওই এলাকায়ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তখনও বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে ইরাক–ইরান সীমান্তের সালামচেহ সীমান্ত ক্রসিংয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। সীমান্ত কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় দুজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার পরও সীমান্ত দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকায় ক্রসিংটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।
এই নতুন হামলার ঘটনাগুলোর পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। চলতি মাসের শুরুতে উভয় দেশ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে সংঘাত কমানোর উদ্যোগ নিলেও সাম্প্রতিক হামলার পর সেই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২ দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি এভাবেই অব্যাহত থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে পরিস্থিতি শান্ত করার বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। ফলে অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

