ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং চলমান নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি পাস হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, এত বড় সামরিক ব্যয়ের পরিবর্তে সামাজিক খাতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২১৬–২১২ ভোটে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়। ভোটাভুটি মূলত দলীয় অবস্থান অনুযায়ী হলেও ছয়জন ডেমোক্র্যাট বিলটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে সাতজন রিপাবলিকান নিজেদের দলের অবস্থানের বিপক্ষে গিয়ে বিলটির বিরোধিতা করেন।
বিলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য ব্যয় মোকাবিলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রিপাবলিকান নেতৃত্বের সমর্থনে বিলটি পাস হলেও ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশ এর বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, হোয়াইট হাউসের সামরিক নীতির ওপর কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেস যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না। পাশাপাশি সামাজিক কর্মসূচির ব্যয় কমিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক নীতিরও সমালোচনা করে আসছেন, ভোটের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলটির কড়া সমালোচনা করেন। তার দাবি, এতে এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে ইসরায়েলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে। বিশেষ করে একটি ধারা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনে (এনডিএএ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে গত বছরের প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক তৎপরতার কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন।
বিলটিতে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও যৌথ গবেষণা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অংশের ভোটারের মধ্যে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা সীমিত করার দাবি জোরালো হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এখন বিলটির পরবর্তী গন্তব্য মার্কিন সিনেট। সেখানে এটি সহজে পাস হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যেই বিপুল সামরিক ব্যয় এবং কিছু বিতর্কিত ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। গত সপ্তাহে সিনেটে বিলটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক শুরুর উদ্যোগও তারা আটকে দেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, বর্তমান বিলটি কার্যত ইরান-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনকে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার পথ তৈরি করছে। এ কারণে বিলটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন সাধারণত কংগ্রেসে সহজেই পাস হয়। তবে এবার এতে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, ইউক্রেন-সংক্রান্ত সহায়তা এবং নির্বাচনব্যবস্থায় পরিবর্তনসংক্রান্ত কয়েকটি বিতর্কিত বিষয় যুক্ত হওয়ায় আইনটি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন সিনেটে আলোচনার পর বিলটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

